গত অক্টোবরে না হয়ে সেপ্টেম্বরেই টেস্ট অভিষেক হয়ে যেতে পারত জুবায়ের
হোসেনের। এমনকি ২০১৫-র বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও থাকতে পারতেন এই লেগ স্পিনার।
কিন্তু 'পারত' কিংবা 'পারতেন' লিখতে হচ্ছে, কারণ দুইবারই দল নির্বাচনী
আলোচনায় এ তরুণের হয়ে গলা ফাটানো চন্দিকা হাতুরাসিংহের মত টেকেনি।
বিশ্বকাপ দল নির্বাচনী বৈঠকে যে বাংলাদেশের হেড কোচ জুবায়েরের
অন্তর্ভুক্তির জোর দাবি জানিয়েছিলেন, সেটি তো ৪ জানুয়ারি স্কোয়াড ঘোষণার
দিনই প্রকাশ্য করে দিয়েছেন খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। যদিও এই তরুণ
লেগ স্পিনারে হাতুরাসিংহের অনুরাগের খবর নতুন নয়। নেটে জুবায়েরের বোলিং
দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছিল তাঁর। এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে
সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের জন্য অভিযুক্ত অফ স্পিনার সোহাগ গাজীর বিকল্প
হিসেবে টেস্ট সিরিজে এ লেগ স্পিনারকে উড়িয়ে নিতে চেয়েছিলেন ক্যারিবীয়
দ্বীপপুঞ্জেও। কিন্তু বাদ সেধেছিলেন নির্বাচকরা। জুবায়েরের অভিষেকের জন্য
দেশের মাঠই আদর্শ মঞ্চ বলে মনে হয়েছিল তাঁদের। সে জন্যই সেপ্টেম্বর নয়,
পরের মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলার সুযোগ পান এ
তরুণ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধ কন্ডিশনে যখন বিশ্বকাপ, তখন
আবার নির্বাচকরা তাঁকে আগলে রাখার চিন্তাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেজন্য
আরেকবার জুবায়েরকে দলে চেয়েও নিরাশ হতে হলো বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কান
কোচকে।
সিদ্ধান্ত মেনেও নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জুবায়েরের দলে থাকা উচিত ছিল
বলেও মনে করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন বিশ্বকাপ দল
ঘোষণার আগেই। ফেরার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ক্রমবর্ধমান
চাপে কাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনও করে ফেললেন। সেখানেই উঠল জুবায়ের প্রসঙ্গ।
নিজের কোচিং জীবনের অস্ট্রেলিয়া অভিজ্ঞতা থেকেই দলে লেগ স্পিনারের
প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে চাইলেন, 'জুবায়ের দলে থাকলে আমি খুবই খুশি হতাম। কারণ
লেগ স্পিনাররা অস্ট্রেলিয়ায় খুবই কার্যকর। অস্ট্রেলিয়ায় আমার চার বছরের
অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, সেখানকার প্রতিটা রাজ্য দলই দলে একজন লেগ স্পিনার
রাখার চেষ্টা করে। এ জন্যই যে এ ধরনের স্পিনাররা উইকেট নিয়ে দেয়।'
জুবায়েরকে রাখা গেলে দলের বোলিং বৈচিত্র্য বাড়ত বলেও মনে করিয়ে দিলেন,
'হ্যাঁ, এটা সত্যি যে আমার তরফ থেকে ওকে দলে রাখার দাবি ছিল। উইকেট নেওয়ার
ক্ষেত্রে দলের বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য যোগ করত বলেই ও আমাদের পরিকল্পনায়
ছিল। যদিও সে দলে নেই। তবু যারা আছে, তাদের নিয়েই চেষ্টা করতে হবে আমাদের।'
কথা শুনে মনে হতেই পারে যে তিনি কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন। আসলেই কি তাই? সরাসরি
জানতে চাওয়ায় বললেন, 'আমি তো বললামই যে লেগ স্পিনার দলের আক্রমণে বাড়তি
বৈচিত্র্য যোগ করতে পারত। একেই দলে সাকিব আছে। সেই সঙ্গে আরো দুজন বাঁহাতি
স্পিনার। এই তিনজনের এক ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা আসলে খুবই কম। সেই দৃষ্টিকোণ
থেকে দুজন বাঁহাতি স্পিনারকে নেওয়াটা কঠিন সিদ্ধান্তের ব্যাপারই ছিল। ওরা
(তাইজুল ইসলাম ও আরাফাত সানি) দারুণ বোলার নিঃসন্দেহে। কিন্তু আক্রমণে একটু
ভিন্নতা থাকলেই খুশি হতাম আমি।' দল নির্বাচনে তাঁর ভোটাধিকার থাকলে ভালো
হতো কি না, এমন প্রশ্নের জবাবটা অবশ্য দিয়েছেন সুকৌশলেই, 'কোচ হিসেবে
অন্যান্য কোচিং স্টাফ, সিনিয়র ক্রিকেটার ও অধিনায়ককে নিয়ে আমি পরিকল্পনা
করি। আর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নির্বাচকরা যেটা করেন, সেটা হলো কোচিং স্টাফের
সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং আলোচনা করা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দল নির্বাচনে মতামত
দেওয়ার সুযোগ থাকলে সেটা কাজেই দেবে। তবে পারস্পরিক যোগাযোগটাও দরকার।'
পারস্পরিক সেই যোগাযোগের ভিত্তিতেই জুবায়েরকে দলে রাখার দাবি জানাতে
পেরেছিলেন হাতুরাসিংহে। কিন্তু বর্তমানে এটাই অলিখিত নিয়ম যে দল গড়ে দেবেন
নির্বাচকরা। আর ম্যাচের একাদশ ঠিক করবেন অধিনায়ক ও কোচ মিলে।
দলে সুযোগ পাওয়া আরেক তরুণ সৌম্য সরকারকে নিয়ে অবশ্য ভীষণ উচ্ছ্বসিতই
শোনাল হাতুরাসিংহের কণ্ঠ, 'সৌম্য রানে আছে। আমি শুনলাম যে ও নাকি ব্যাটিং
অর্ডারের এক থেকে সাত পর্যন্ত যেকোনো জায়গায় ব্যাট করতে পারে। সেই সঙ্গে ওর
বোলিংটাও কাজে লাগতে পারে। তবে আমরা প্রথমত ওর ব্যাটিংয়ের দিকেই তাকিয়ে
আছি। এরপর যদি বল হাতেও অবদান রাখতে পারে, তাহলে সেটা হবে বোনাস। তাই বলে
এমন নয় যে আমরা ওর কাছে ১০ ওভার বোলিং আশা করছি। ওকে ব্যাটসম্যান হিসেবেই
বিবেচনা করা হচ্ছে, যে কিনা বোলিংটাও করতে জানে।' জুবায়ের দলে না থাকলেও ১৫
জনের এই স্কোয়াড নিয়ে বহুদূর যাওয়ার স্বপ্নও আছে হাতুরাসিংহের। কত দূর?
অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার মতো কোচের লক্ষ্যও কোয়ার্টার ফাইনাল,
'একেবারে ফাইনাল পর্যন্ত যাব, এমনটা বলতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু বাস্তবতা
হলো আমাদের আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার কথা ভাবতে হবে। এখন আমরা সেই
লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।






0 comments:
Post a Comment